বেশি বিড়াল, বেশি সুখী মানুষ? ৯৩ দেশের নতুন গবেষণায় যা জানা গেল

Tap here to add Mew Mew Shop BD as a trusted source

বেশি বিড়াল, বেশি সুখী মানুষ? ৯৩ দেশের নতুন গবেষণায় যা জানা গেল

বাড়িতে একটি বিড়াল থাকলে ঘরটা যেন একটু বেশি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কখনো সে আপনার পাশে চুপচাপ বসে থাকবে, কখনো খাবারের জন্য ডাকাডাকি করবে, আবার কখনো কোনো কারণ ছাড়াই ঘরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড়াবে।

বিড়াল মানুষের জীবনে আনন্দ, সঙ্গ এবং মানসিক স্বস্তি এনে দিতে পারে, এমন ধারণা নতুন নয়। কিন্তু এবার গবেষকদের একটি প্রশ্ন ছিল আরও বড় পরিসরে:
যেসব দেশে বিড়ালের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি, সেসব দেশের মানুষ কি নিজেদের জীবন নিয়ে বেশি সুখী?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় ৯৩টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গবেষণা জার্নাল

গবেষকেরা বিভিন্ন দেশের মানুষের সুখ বা subjective well-being, দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা, স্বাস্থ্য খাতে ব্যয়, জনসংখ্যার তুলনায় বিড়ালের সংখ্যা এবং Toxoplasma gondii নামের একটি পরজীবীর সংক্রমণের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করেছেন।
এখানে বিড়ালের সংখ্যা বোঝাতে তারা মোট বিড়ালের সংখ্যা নয়, বরং প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে কতটি বিড়াল রয়েছে সেই হিসাব ব্যবহার করেছেন। PLOS

😺 বেশি বিড়ালের দেশে সুখের মাত্রাও বেশি

গবেষণার সবচেয়ে আলোচিত ফলাফল হলো, যেসব দেশে জনসংখ্যার তুলনায় বিড়ালের ঘনত্ব বেশি, সেসব দেশে মানুষের reported happiness বা subjective well-being-ও তুলনামূলক বেশি ছিল।
গবেষণায় বিড়ালের ঘনত্ব এবং জাতীয় সুখের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে অর্থনৈতিক অবস্থা, বিশেষ করে GDP এবং income level-এর সঙ্গে সুখের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ছিল।
অর্থাৎ, গবেষণাটি এটা বলছেনা যে:
“বিড়াল বেশি হলেই মানুষ সুখী হয়।”

বরং বিষয়টি হলো, বিড়ালের উপস্থিতি, মানুষের জীবনযাপন, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং সামাজিক পরিবেশের মধ্যে একটি আকর্ষণীয় সম্পর্ক দেখা গেছে।

বিড়াল কীভাবে মানুষের ভালো থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে?

বিড়াল শুধু একটি পোষা প্রাণী নয়। অনেক মানুষের কাছে তারা পরিবারের সদস্য এবং emotional companion।
আগের বেশ কিছু গবেষণাতেও দেখা গেছে, companion animals মানুষের একাকিত্ব কমাতে, emotional bonding তৈরি করতে এবং stress বা mood-এর ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। নতুন গবেষণাটির লেখকেরাও মনে করছেন, মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্ক জাতীয় পর্যায়ের well-being-এর পার্থক্যের একটি সম্ভাব্য অংশ হতে পারে। 
একজন মানুষ যখন দিনের শেষে বাসায় ফিরে তার বিড়ালকে কাছে পায়, বিড়ালটি তার পাশে এসে বসে বা আদর চায়, তখন সেই ছোট্ট interaction-ও অনেকের কাছে মানসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে ঠিক কতটা এবং কীভাবে বিড়াল মানুষের সুখকে প্রভাবিত করে, তা এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

গবেষণায় এলো Toxoplasma gondii-এর বিষয়টিও

গবেষণাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল Toxoplasma gondii নামের একটি পরজীবী।
বিড়াল এই পরজীবীর প্রধান host। তবে মানুষ শুধুমাত্র বিড়ালের কারণেই এই পরজীবীতে আক্রান্ত হয় না। দূষিত মাটি বা পানি, বিড়ালের মল থেকে সংক্রমণ এবং অপর্যাপ্তভাবে রান্না করা contaminated meat-সহ বিভিন্ন মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে।
গবেষকেরা এই পরজীবীর exposure-এর সঙ্গে দেশগুলোর happiness score-এর সম্পর্কও পরীক্ষা করেছেন।
এখানে তারা একটি interesting pattern দেখতে পান।
যেসব দেশে recent Toxoplasma exposure-এর সূচক, অর্থাৎ IgM seroprevalence বেশি, সেসব দেশে happiness score তুলনামূলক কম ছিল। অন্যদিকে chronic exposure-এর সূচক IgG-এর সঙ্গে সম্পর্কটি তুলনামূলক দুর্বল ছিল।
তবে এর অর্থ এই নয় যে Toxoplasma infection সরাসরি মানুষকে অসুখী করে। গবেষণাটি এমন causal relationship প্রমাণ করেনি।

বেশি বিড়ালের দেশে পরজীবী কম কেন?

গবেষণার সবচেয়ে অবাক করা ফলাফলগুলোর একটি পাওয়া যায়।
সাধারণভাবে ভাবলে মনে হতে পারে, কোনো দেশে যত বেশি বিড়াল থাকবে, মানুষের Toxoplasma exposure-ও হয়তো তত বেশি হবে।
কিন্তু গবেষণায় তার উল্টো একটি সম্পর্ক দেখা গেছে।
বিড়ালের ঘনত্ব বেশি এমন দেশগুলোতে Toxoplasma exposure তুলনামূলক কম হওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।
গবেষকেরা এর সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হিসেবে অর্থনৈতিক ও জীবনযাপনের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন।
উন্নত ও তুলনামূলক ধনী দেশগুলোতে পোষা বিড়ালদের অনেক সময়:
- ঘরের ভেতরে রাখা হয়
- commercial cat food খাওয়ানো হয়
- নিয়মিত পশুচিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়
- টিকা ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়
- free-roaming-এর সুযোগ তুলনামূলক কম থাকে
ফলে পরিবেশের মাধ্যমে পরজীবী ছড়ানোর সম্ভাবনাও কম হতে পারে। অন্যদিকে কিছু নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে free-roaming cats বেশি থাকায় exposure-এর সুযোগ ভিন্ন হতে পারে। 

শুধু বিড়াল নয়, অর্থনীতিও গুরুত্বপূর্ণ

গবেষণায় একটি বিষয় বেশ পরিষ্কারভাবে উঠে এসেছে, আর তা হলো দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং মানুষের সুখের মধ্যে শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
GDP per capita, income level এবং health expenditure-এর মতো বিষয়গুলোর সঙ্গেও happiness score-এর ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে cat density-ও এই socioeconomic factors-এর সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। 
তাই কোনো দেশের মানুষ বেশি সুখী হওয়ার পেছনে শুধু বিড়ালের সংখ্যা দায়ী, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
বরং একটি দেশে মানুষের জীবনযাত্রার মান ভালো হলে তারা হয়তো পোষা প্রাণী রাখার সামর্থ্য বেশি পায়, পশুচিকিৎসা ও pet care-এর সুযোগ বেশি থাকে এবং একই সঙ্গে তাদের overall well-being-ও ভালো হতে পারে।
অর্থাৎ, বিড়াল এখানে সুখের একটি সম্ভাব্য অংশ হতে পারে, কিন্তু পুরো গল্প নয়।

তাহলে কি বিড়াল পুষলে আপনিও সুখী হবেন?

এই গবেষণার ভিত্তিতে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না।
গবেষণাটি ৯৩টি দেশের population-level data বিশ্লেষণ করেছে। অর্থাৎ এখানে একটি দেশের মানুষের গড় তথ্যের সঙ্গে অন্য দেশের গড় তথ্য তুলনা করা হয়েছে।
এটি এমন কোনো দীর্ঘমেয়াদি experiment নয় যেখানে কিছু মানুষকে বিড়াল পুষতে দেওয়া হয়েছে এবং অন্যদের দেওয়া হয়নি, তারপর তাদের happiness তুলনা করা হয়েছে।
তাই গবেষকেরাও স্পষ্ট করেছেন যে এই ফলাফল থেকে causation বা কারণ-ফল সম্পর্ক প্রমাণ করা যায় না। 
সহজভাবে বললে:
বিড়াল বেশি → মানুষ বেশি সুখী
এটা গবেষণার প্রমাণিত সমীকরণ নয়।
বরং:
বিড়ালের ঘনত্ব ↔️ বেশি reported happiness
এই সম্পর্কটাই গবেষণায় পাওয়া গেছে।

আরও গবেষণা প্রয়োজন কেন?

গবেষণাটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, cat density-এর হিসাবের মধ্যে pet cats, stray cats এবং feral cats আলাদা করে বিবেচনা করা হয়নি। অথচ এই তিন ধরনের বিড়ালের সঙ্গে মানুষের interaction এবং parasite transmission একরকম নয়। PLOS
এ ছাড়া climate, urbanization, sanitation infrastructure এবং অন্যান্য সামাজিক ও পরিবেশগত বিষয়ও happiness ও parasite exposure-এর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষকেরা তাই ভবিষ্যতে আরও নির্দিষ্ট ধরনের গবেষণার পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন, দীর্ঘ সময় ধরে এমন মানুষদের পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে যারা বিড়াল পোষেন এবং যারা পোষেন না। তাহলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিড়াল ও well-being-এর সম্পর্ক আরও ভালোভাবে বোঝা সম্ভব হবে। 

শেষ কথা: 

বিড়াল হয়তো সুখের কারণ নয়, কিন্তু সুখের সঙ্গী হতে পারে
নতুন এই গবেষণা আমাদের সামনে একটি মজার এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
মানুষের সুখকে আমরা সাধারণত অর্থ, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা বা জীবনযাত্রার মানের মতো বিষয় দিয়ে ব্যাখ্যা করি। কিন্তু মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্কও হয়তো এই গল্পের একটি অংশ।
একটি বিড়াল হয়তো কোনো দেশের happiness score বদলে দেবে না।
কিন্তু আপনার জীবনে একটি বিড়ালের উপস্থিতি যে ছোট ছোট আনন্দ তৈরি করতে পারে, সেটার জন্য কোনো happiness index-এর প্রয়োজন নেই।

সকালে ঘুম থেকে উঠে পাশে গোল হয়ে ঘুমানো একটা বিড়াল, কাজের মাঝে এসে মনোযোগ চাওয়া, দরজার কাছে অপেক্ষা করা, কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই আপনার পাশে এসে বসে থাকা...
এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই হয়তো pet parenting-এর আসল আনন্দ। ❤️🐾
আর নতুন গবেষণাটি আমাদের শুধু এটুকুই মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের ভালো থাকার গল্পে প্রাণীদের জায়গাটাও হয়তো আমরা যতটা ভাবি, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Comments

Leave a Comment